পঞ্চদশ শতকে বাংলার জনসমষ্টিরই একাংশ স্বাধীন আরাকানের গোড়াপত্তন করেছিলেন। ষষ্ঠদশ ও সপ্তদশ শতকে আরাকানের রাজসভা ছিল বাংলা সাহিত্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র। আরাকান তথা রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস আমাদের অতীত ঐতিহ্যের ইতিহাস, বাঙালি মুসলমানের গৌরবের ইতিহাস।
মুসলিম শাসনামলে বাংলা ভাষার নবজন্ম ঘটে, বাংলা সাহিত্যের চর্চা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সাহিত্য যে ঐতিহাসিক বাস্তবতার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ধারণ করে এক স্বাধীন জাতি ও সমৃদ্ধ সাহিত্যের উত্তরাধিকারিত্ব নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তারই নানান প্রয়াস এ গ্রন্থে নিহিত রয়েছে।
বাংলা ভাষায় প্রথম সাহিত্যকর্ম চর্যাপদ। গিয়াসুদ্দিন আজম শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত বাঙ্গালী কবি কৃত্তিবাস তাঁর রামায়ণ রচনা করেন বাঙ্গালী মন নিয়ে। পরবর্তীতে ইলিয়াস শাহী বংশের শাসক রুকনউদ্দিন বারবাক শাহ এবং তাঁর পুত্র ইউসুফ শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় মালধর বসু (গুনরাজ খাঁ) রচনা করেন ‘শ্রীকৃষ্ণ বিজয়’ কাব্য। এটিই বাংলা ভাষায় প্রথম অব্রাহ্মণের রচনা। এ গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম শাসকদের অবদান আলোকপাত করা হয়েছে।
এ গ্রন্থে লেখক স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান করেছেন এ ভূখন্ডের অতীত ইতিহাসের গভীরে। বাঙালির ইতিহাস ও ঐহিত্যের প্রবহমান মূলধারায় তিনি নির্দেশ করেছেন বাংলাদেশের উৎসস্থলকে। বাঙালির ইতিহাস নিয়ে আজও অনুসন্ধিৎসার বিরাম নেই। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর এ প্রচেষ্টা আশাপ্রদভাবে ক্রমবর্ধমানতার প্রয়াস এই গ্রন্থে নিহিত।
খ্রিস্টপূর্ব ২৬৬৬ অব্দ থেকে ১৭৮৪ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর ধরে এর স্বাধীন সত্তা, সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা, রাজনৈতিক ঐতিহ্য ইতিহাসে স্মরণীয় আরাকান। ১৪০৬ খ্রিস্টাব্দে আরাকানের রাজা পিতৃরাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে দীর্ঘ চব্বিশ বছর বাংলায় অবস্থানের পর ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ শাহের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আরাকান পুনরুদ্ধার করেন। এ গ্রন্থে আরাকান মুসলমানদের সোনালি ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে।
নাট্য আন্দোলনের ইতিহাস বহু পুরানো। কেউ কেউ দাবি করছে ১৯৭১-এর পর এদেশে নাটকের জন্ম। ১৯৫০ সাল থেকে ঢাকার মঞ্চ ও বেতারে নাটকের ব্যাপক প্রচলন ছিল। সে সময় থেকে দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সন-তারিখ তুলে ধরে ‘বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে ইতিহাস’ বইটি রচিত হয়েছে।
ভাষা আন্দোলন বাঙালি তথা বাংলা ভাষাভাষি সম্প্রদায়ের জীবনে জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ মহান আন্দোলনের বস্তুনিষ্ঠ সচিত্র দলিলপত্রসহ ধারাবাহিক ইতিহাস আমাদের সামনে নেই। ১৯৪৭ সাল থেকে এ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে এ আন্দোলন চরম পরিণতি লাভ করে। আর এই পরিণতি আত্মত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল।
এ আন্দোলনে বস্তুনিষ্ঠ ধারাবাহিক ইতিহাসের উপকরণ সংগ্রহের জন্য জনাব মোস্তফা কামাল দীর্ঘদিন এ আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ভাষা সৈনিকদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবং এসব গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার 'ঢাকা ডাইজেস্ট'-এ সিরিজ আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার সময় সাক্ষাৎকারগুলো পাঠক ও বুদ্ধিজীবী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইতিহাসের অনুরাগী অনেক অনুসন্ধিৎসু পাঠক ভাষা আন্দোলনের সৈনিকদের এ সাক্ষাৎকার সংগ্রহের কাজকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের অন্বেষায় 'গ্রাউন্ড ওয়ার্ক' হিসেবে উৎসাহিত করেছেন।
এসব সাক্ষাৎকার 'ভাষা আন্দোলন: সাতচল্লিশ থেকে বায়ান্ন' গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের অনেক বিভ্রান্তি ও কাল্পনিক তথ্যের অবসান ঘটিয়ে সঠিক ইতিহাস পাঠকের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। (নোট প্রকাশকের কথা)
৪৭-৫২ সময়ের ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শী ও সংগ্রামী ভাষাসৈনিকদের বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এ গ্রন্থে ভাষা আন্দোলনের অনেক বিভ্রান্তি ও কাল্পনিক তথ্যের অবসান ঘটিয়ে সঠিক ইতিহাস পাঠকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাসের অনুরাগী অনুসন্ধিৎসু পাঠক ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস এ গ্রন্থ থেকে অন্বেষণ করতে পারবে।
বিশ্বের সমস্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক ও মতাদর্শভিত্তিক জ্ঞানশৃঙ্খলার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যেই আল কোরআনের আবির্ভাব। আল্লাহর সাথে অংশীবাদ সাব্যস্তকারীদের মনের জ্বালা বাড়লেও ইসলামী এপিস্টোমেলজিই বিজয়ী থাকবে। সেজন্য কুরআন ও সুন্নাহর মিলিত প্রজ্ঞাপ্রবাহের মাধ্যমে বিশ্বে জ্ঞানতাত্ত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব বিনির্মিত হতে পারে। ‘ইসলাম ও জ্ঞানতত্ত্ব’গ্রন্থে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
Reviews
There are no reviews yet.