ক্রীতদাস সাহাবীরা আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কত প্রিয় ছিলেন, তার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যাবে এই গ্রন্থে। মহানবীর কয়েকজন মুক্ত দাসদাসী সাহাবীর বাস্তব কাহিনি উল্লেখ করা হলো, যা অলৌকিক কাহিনিকে হার মানায়। বর্তমান কালের সঠিক অবক্ষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাসূল (সা.)-এর সাহাবীদের জীবনকাহিনি চর্চা যত বেশি হয়, ততই আমাদের জন্যে কল্যাণকর।
মানুষের অতি মূল্যবান সম্পদ হলো চরিত্র। চরিত্র সংশোধনে উদ্যোক্তার অভাব। লেখক এ গ্রন্থে চরিত্র গঠনের জন্য সমাজের ভ‚মিকা কীভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কুরআন, হাদীস ও নামাজের মাধ্যমে চরিত্র গঠনের জন্য চমৎকার উপকরণ এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন।
‘তাকওয়া ও ইহসানের পথ’ কুরআন-হাদীসের ভিত্তিতে রচিত বাস্তব আমলে জিন্দেগি ও তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। এ ছাড়া তিনি ফোরকানিয়া-মকতাবের উস্তাদ আলেমদের প্রশিক্ষক (উস্তাদ) হিসেবে তাযকিয়া তথা কালব-রূহ ও নফসের পরিশুদ্ধির সহিহ ধারাকে শিশুদের পর্যায় থেকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মুআল্লিমদের উদ্দেশে যে সকল বক্তব্য পেশ করেছেন, তার সারনির্যাস হলো এ কিতাব।
এ গ্রন্থে কুরআন-হাদীসের আলোকে পরিবার ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে তোলার জন্য মানুষকে দুনিয়ার জীবনযাপন ও জান্নাতমুখী আমলের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছেন। মাতা-পিতা ও সন্তানের দ্বীনি জিন্দেগীর নানা দিকের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। মাতা-পিতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব এবং সন্তানের প্রতি মাতা-পিতার দায়িত্ব সম্পর্কে সুবিন্যস্তভাবে অবগত করা হয়েছে।
ব্যক্তি ও সমাজজীবনে চলার জন্য ইসলাম আমাদেরকে পথ দেখিয়েছে। মুয়ামালাত ও মুয়াশারাতের ক্ষেত্রে ইসলাম আমাদের কী পথ বাতলে দিয়েছে, তা লেখক এ গ্রন্থে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আমাদের তরুণ প্রজন্ম জীবনাচরণে, কথা-কাজে, আদব-কায়দায়, নীতি-নৈতিকতায়, জবাবদিহিতায় কীভাবে একজন আদর্শবান মানুষ হিসেবে নিজেদের তৈরি করবে, তার সুন্দর ও সার্বিক দিকনির্দেশনা রয়েছে বইটিতে।
আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে সমাজে নামাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব অপরিসীম। যে দেশের শতকরা পঁচাত্তর ভাগের অধিক মানুষ রমজানের রোজা রাখে, নিয়মিত নামাজ পড়ে, সে দেশ সত্যিকার অর্থেই একটি ঐশ্বর্যশালী দেশ। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নামাজ কায়েম করতে হবে। এ গ্রন্থের পরতে পরতে সমাজ বিনির্মাণে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
গ্রন্থে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত আল্লাহর নিয়ামাতের বিভিন্ন উৎস নিয়ে আলোচনা এবং এ থেকে ফজিলত লাভের প্রমাণভিত্তিক আলোচনা স্থান পেয়েছে। কুরআনের মর্ম উপলব্ধি এবং জান্নাতমুখী পথচলায় এবং জাহান্নামের পথ পরিহারের ক্ষেত্রে গ্রন্থটি নির্ভরযোগ্য গাইড হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দুনিয়ার শান্তি ও আখেরাতের চিরস্থায়ী কল্যাণপ্রত্যাশী পাঠককে কুরআন ও হাদীসচর্চায় অধিকতর উৎসাহিত করবে।
Reviews
There are no reviews yet.